News weekly

আবু সাঈদ চৌধুরীর যোগ্যতা ও দক্ষতার কারণে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বীকৃতি ত্বরান্বিত হয়

রিডিং ক্লাব ট্রাস্টের

২৭০তম  সাপ্তাহিক পাবলিক লেকচার

বিষয়: শ্যাডো অব দি চৌধুরী- রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধূরীর জীবনকীর্তির অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণ

বক্তা: ইফতিখারুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রেস রিলিজ  

 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ একটি গৌরবজনক অধ্যায়। দেশের ভিতরে মুক্তিযুদ্ধ চলছিল। অন্যদিকে দেশের বাহিরে ছিল দুই পরাশক্তির দ্বন্দ্ব। আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নে দুই মোড়লের মধ্যে কোন দেশ স্বাধীন হওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। বর্তমানে অনেক জাতি আন্তর্জাতিক রাজনীতির কারণে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে না।

বাংলাদেশ অনেক সৌভাগ্যবান একটি জাতি। কারণ আন্তর্জাতিক রাজনীতির উত্তাপ সত্ত্বেও কয়েকজন মানুষের প্রগাঢ় বুদ্ধি ও দক্ষতার জন্য, চরম উত্তেজনার মধ্যেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বীকৃত হয়।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির উত্তাপের মধ্যে আবু সাঈদ চৌধুরীর যোগ্যতা ও দক্ষতার কারণে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বীকৃতি ত্বরান্বিত হয়। তাছাড়া আমাদের মুক্তিযুদ্ধকালীন দুজন দক্ষ নেতা ছিলেন। প্রথমজন দেশের ভেতরে তাজউদ্দিন আহমদ । দ্বিতীয়জন দেশের বাহিরে  আবু সাঈদ চৌধুরী।

কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় বাহিরের উত্তাপ সম্পর্কে বাংলাদেশে আলোচনা কম। সেজন্য আবু সাঈদ চৌধুরী বাংলাদেশের অনালোচিত। যা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়।

রিডিং ক্লাবের পরিচালক আরিফ খান উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

রিডিং ক্লাবের ২৭০তম সাপ্তাহিক পাবলিক লেকচারের বিষয় ছিল “শ্যাডো অব দি চৌধুরী- রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধূরীর জীবনকীর্তির অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণ”।

মূল আলোচনায় ইফতিখারুল ইসলাম আবু সাঈদ চৌধুরীর জীবনের নানা প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯২১ সালে টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণ করেন। তখন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাসহ ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের শাসন ছিল। কিন্তু তার পরিবার ছিল অসাম্প্রদায়িক। যা অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে সাঈদ চৌধুরীকে সহায়তা করে।

মানুষের মনে আঘাত দেওয়া যাবে না, মায়ের উপদেশটি সারাজীবন মনে রেখেছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকাকালীন পদত্যাগ করা, তার ছাত্রদের প্রতি ভালোবাসা ও ক্ষমতার প্রতি লোভহীনতা প্রকাশ করে।

আবু সাঈদ চৌধুরীকে বোঝার জন্য মুক্তিযুদ্ধ পূর্ববর্তী ও মুক্তিযুদ্ধ সময়কালীন প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা প্রয়োজন। তাহলেই আবু সাঈদ চৌধুরী ব্যক্তিকে বোঝা সহজ হবে।

রিডিং ক্লাবের প্রধান গবেষক রাশেদ রাহম শ্রদ্ধাভরে তার কথা স্মরণ করেন। আবু সাঈদ চৌধুরী সম্পর্কে বলেন, তাঁর প্রধান বিচারপতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তিনি দেশের মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সকল ক্ষমতা ও পাকিস্তান সরকারের হুংকারকে উপেক্ষা করে, দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন।

তাঁর স্বপ্ন সম্পর্কে জানার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকাকালীন তার সমাবর্তন বক্তৃতা পড়ার কথা বলেন। তরুণ প্রজন্মের উচিত তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য নিজেদের তৈরী করা।

You Might Also Like

No Comments

Leave a Reply