News

ঢাকা প্রতিবাদের শহর, হার না মানা ও সংস্কৃতির শহর

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০৩:২০
ঢাকা ঐতিহাসিকভাবেই প্রতিবাদী, হার না মানা ও সংস্কৃতির শহর। অদূর ভবিষ্যতেই ঢাকায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে। কিন্তু সঠিকভাবে পরিকল্পনা না নেওয়া হলে এই নগরায়ণ মানুষের জন্য বিভীষিকায় পরিণত হতে পারে। অন্যদিকে ঢাকা শহর পরিচ্ছন্ন না থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তাই ঢাকার জন্য এখনই একজন ‘ভালো কোতোয়াল’ দরকার।
‘বাংলায় নগরায়ণ ও ঢাকা’ শীর্ষক এক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে গতকাল শনিবার ইতিহাসবিদ ও গবেষক শরীফ উদ্দিন আহমেদ এ মন্তব্য করেন।
এশিয়াটিক সোসাইটি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজক বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সংগঠন ‘রিডিং ক্লাব’। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ ক্লাব প্রতি মাসে একটি বিষয়ের ওপর উন্মুক্ত বক্তৃতার আয়োজন করে থাকে। এটি ছিল তাদের নবম আয়োজন।
প্রধান বক্তা শরীফ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, নগর হলো সভ্যতা ও ক্ষমতার কেন্দ্র। মুদ্রা অর্থনীতি প্রচলনের মাধ্যমে বাংলাকে গ্রামীণ সভ্যতা থেকে নগরসভ্যতার সঙ্গে সংযুক্ত করেন মুসলিম শাসকেরা। সতেরো শতকের প্রথমদিকে ঢাকা মুঘল প্রদেশ বাংলা, বিহার ও ওডিশার রাজধানী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং পূর্ব ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী নগরকেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু ১৭৬৫ সালে ব্রিটিশরা ঢাকা দখল করে ফেলার পর তাদের স্বেচ্ছাচার ও লোভের শিকার হয়ে এই শহর ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়। তবে ভৌগোলিক সুবিধার কারণে এবং এর অন্তর্নিহিত লড়াকু চেতনার কারণে ঢাকা ধীরে ধীরে পুনরুজ্জীবিত হয়। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে ঢাকা নতুন করে মনোযোগ আকর্ষণ করে। ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী হওয়ার ফলে নগর হিসেবে এর সম্ভাবনা উজ্জ্বলতর হয়। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর রাজধানী হিসেবে ঢাকা বিকাশ লাভ করে এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতি সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, সংবিধানে আছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। এখন ঢাকা মানে কী? ঢাকার সংজ্ঞা ও সীমানা নির্ধারণ করা দরকার।

You Might Also Like

No Comments

Leave a Reply