News

ফটোগ্রাফি সামাজিক প্রতিরোধের শক্তিশালী মাধ্যম- রিডিং ক্লাব ও রাজ্জাক ফাউন্ডেশন আয়োজিত পাবলিক লেকচারে শহিদুল আলম

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ফটোগ্রাফি শুধু একটি প্রযুক্তি বা শিল্পমাধ্যম নয়, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার প্রভাবশালী অস্ত্র। গতকাল শনিবার জাতীয় জাদুঘরের বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে রিডিং ক্লাব ট্রাস্ট ও জ্ঞানতাপনস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশন আয়োজিত ১৪তম মাসিক লেকচারে এসব কথা বলেন দৃক পিকচার লাইব্রেরি ও পাঠশারা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা আলোকচিত্রী শহীদুল আলম। এক ঘণ্টার বক্তৃতায় তিনি নিজের তোলা আলোকচিত্র, ভিডিও এবং সমাজকর্মী হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বর্ণনার মাধ্যমে দেখিয়েছেন, কীভাবে স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে সেই এরশাদের আমল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক নিপীড়ন ও মানবিক অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনে আলোকচিত্রীগণ ভূমিকা রেখেছেন। বিদেশি আলোকচিত্রীদের ছবিতে বাংলাদেশ সারা পৃথিবীতে পরিচিতি পেয়েছে শুধু একটি দরিদ্র, দুর্ভিক্ষ মহামারি-পিড়ীত দেশ হিসেবে। বাংলাদেশের সত্যিকারের পরিচিতি তুলে ধরার জন্যই দৃক পিকচার লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর জনগণের উল্লাসের ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, তখন ভাবলাম আবার স্বাধীনতা পেয়েছি। গণতন্ত্রের জন্য এখনো আমাদের আক্ষেপ করতে হবে তখন ভাবিনি।
আলোচনায় তিনি গণআদালত ও সরকারি গণমাধ্যমের রাজনীতিকরণ, ক্যামেরার ক্ষমতা ও সমাজের ক্ষমতা-সম্পর্ক, বাংলাদেশে নকশাল আন্দোলন, তসলিমা নাসরিনের প্রতি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিগ্রহ, ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ, জাহাজভাঙ্গা শিল্প, গার্মেন্টস শ্রমিকদের অধিকারহানি, অভিবাসী শ্রমিকদের দুর্ভোগ, বিজিএমই ভবন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয় তিনি তুলে ধরেন। এসময় তিনি ‘ক্রসফায়ার’, ‘কল্পনা চাকমা’ শীর্ষক নিজের গুরুত্বপূর্ণ কর্মের অংশবিশেষ প্রদর্শন ও ব্যখ্যা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গবেষক ড. জাকির হোসেন রাজু। তিনি বলেন, ফটোগ্রাফি জনপরিসরের পরিধি বৃদ্ধি করে এবং আমাদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনেতিক পরিচয় নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করে। আমরা দৃশ্যভাষার যুগে বাস করছি, ইমেজ থেকে আমাদের কোন পরিত্রাণ নেই। সুতরাং আমাদের চলচ্চিত্র, ফটোগ্রাফিসহ জনসংস্কৃতির অন্যান্য মাধ্যম নিয়ে গবেষণার উপর জোর দিতে হবে।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিরিয়াস পাঠাভ্যাস ও গবেষণা-সংস্কৃতিতে উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত রিডিং ক্লাব ২০১৬ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে মাসিক লেকচারের আয়োজন করে থাকে। এছাড়া ইতোমধ্যে তরুণ চিন্তকদের নিয়ে তারা ধারাবাহিকভাবে ২৭৫ টি সাপ্তাহিক লেকচারের আয়োজন করেছে। প্রতি শুক্রবার বিকেল চারটা থেকে ছয়টায় জাতীয় জাদুঘরের নিচতলার সিনেপ্লেক্স হলরুমে এই লেকচার আয়োজন করা হয় যা সবার জন্য উন্মুক্ত।

You Might Also Like

No Comments

Leave a Reply