weekly

বাংলাদেশের টেলিভিশন সাংবাদিকতার গুণগত মান বৃদ্ধি করা উচিত

গত ০৭ ই মে ২০১৭ তে ‘বাংলাদেশে টেলিভিশন সাংবাদিকতার ইতিহাস’ শীর্ষক রিডিং ক্লাবের ২৬৬তম সাপ্তাহিক লেকচারে একথা বলেন প্রবক্তা ও চ্যানের আইয়ের সিনিয়র সাংবাদিক মাশরুর শাকিল। তিনি বলেন ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় টেলিভিশনের প্রথম আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। উপমহাদেশে এর আগে টেলিভিশনের প্রচলন ছিলনা। সেসময় টেলিভিশনে নিয়মিত সংবাদপত্র পাঠ করা হলেও তা নিরপেক্ষ ও সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় ছিলনা।  স্বাধীনতার পর  টেলিভিশন খাত সম্পূর্ণ পৃষ্ঠপোষকতাহীন হয়ে গেলেও  জামিল চৌধূরী এবং কলিম শরাফীদের মত ব্যক্তিত্বদের দৃঢ় প্রত্যয় ও উদ্যোগেই এদেশে টেলিভিশন এবং টেলিভিশন সাংবাদিকতার বিকাশ ঘটে। তবে বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল এবং প্রযুক্তির বিকাশের ফলে টেলিভিশন সাংবাদিকতা এখন বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩০টির মত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সংবাদভিত্তিক চ্যানেলও রয়েছে। এসি নেলসনের সমীক্ষা থেকে উল্লেখ করে তিনি বলেন দেশের প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষের কাছে টেলিভিশন সংবাদের জনপ্রিয়তা রয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচন, শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ, যুদ্ধপরাধীদের বিচারসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মূহুর্তে টেলিভিশন সাংবাদিকতার প্রশংসনীয় ভূমিকা থাকলেও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে চলার প্রশিক্ষণের অভাবে বাংলাদেশের টেলিভিশন সাংবাদিকতার মান প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মূলত যা কিছু প্রতিনিয়ত নতুন করে ঘটছে, তাকে সকলের কাছে পৌঁছে দেয়াই সংবাদমাধ্যমের কাজ। টেলিভিশন সাংবাদিকতার মাধ্যমেই সংবাদ সবচেয়ে বেশি মানুষের কাছে খুব দ্রুত ও সহজে পৌঁছে দেয়া যায়। ১৯৬০ এর দশকে কিছু যুগান্তকারী ঘটনা টেলিভিশন সাংবাদিকতাকে সারাবিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করেছে। ১৯৬৩ সালে জন এফ কেনেডির মৃত্যু, ভিয়েতনামের যুদ্ধ এবং চাঁদে মানুষের অবতরণসহ বিভিন্ন যুগান্তকারী ঘটনা সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচারের পর টেলিভিশন সাংবাদিকতার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে উঠে।  এছাড়া সংবাদভিত্তিক যেমন বিবিসি, সিএনন, আল জাজিরা এবং এনডিটিভিসহ বিভিন্ন চ্যানেলের আত্মপ্রকাশের ফলে টেলিভিশন সাংবাদিকতার বিকাশ সারাবিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে টেলিভিশন সাংবাদিকতা চর্চার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ প্রতিষ্ঠা হয়। বর্তমানে চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও পাঁচটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগ থাকলেও টেলিভিশন সাংবাদিকতাকে কম গুরুত্ব দেয়া হয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত টেলিভিশন ও মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে টেলিভিশন সাংবাদিকতাকে গুরুত্বসহকারে অধ্যয়ন করা হয়।

১২০ মিনিটের অনুষ্ঠানে বক্তার জন্য নির্ধারিত ৪০ মিনিট পর উপস্থিত শ্রোতারা তাদের বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেন।

সমাপনী বক্তব্যে রিডিং ক্লাবের হেড এন্ড রিসার্চ ডিভিশনের রাশেদ রাহম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য হচ্ছে ছাত্রদের মাঝে জ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরী করা এবং তাদের মনে এমন প্রশ্নের উদ্রেগ তৈরী করা যেটা সমাজকে উন্নয়নের দিকে পরিবর্তনে ধাবিত করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য হচ্ছে  জামিল চৌধুরীদের নামে স্মারক বক্তৃতা চালু করা। তিনি আরো বলেন, ১৯৭০ সালের বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় এবং মুক্তিযুদ্ধের খবর সারাবিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে টেলিভিশন সাংবাদিকতা অভাবনীয় ভূমিকা পালন করেছে।

 

You Might Also Like

No Comments

Leave a Reply