Book Review weekly

মেকিং অব আ নেশন বাংলাদেশ : অ্যান ইকোনমিস্টস টেল

রিডিং ক্লাবের ২৩৭তম পাবলিক লেকচার

প্রবক্তা: আতাউর রহমান মারুফ

লেকচার নোট

রিডিং ক্লাবের ২৩৭তম পাবলিক লেকচারের বিষয় ছিল প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ নুরুল ইসলামের লিখিত গ্রন্থ ” মেকিং অব আ নেশন বাংলাদেশ : অ্যান ইকোনমিস্টস টেল“ এর উপর। প্রবক্তা আতাউর রহমান মারুফ প্রথমেই ৪৮২ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থের গুরুত্ব বর্ণনা করেন। তিনি বলেন দুটি কারণে গ্রন্থটি গুরুত্বপূর্ণ । প্রথমত, এখানে পাকিস্তান আমলে বাঙালীদের স্বাধিকার আন্দোলনের অর্থনৈতিক ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে এবং সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, এসব ঘটনার সাথে লেখক ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। ফলে এখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত সময়কাল আলোচিত হয়েছে একজন অর্থনীতিবিদের ভাষ্যে। এ হিসেবে এটাকে আত্মজীবনীমূলক ইতিহাসও বলা যায়।

বইটি তিনটি ভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগে ৫ টি চ্যাপ্টার রয়েছে। প্রথম চ্যাপ্টারে লেখক তার বেড়ে উঠার সময় বর্ণনা করেছেন। তিনি ১৯২৯ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে ভাল রেজাল্টের পর প্রেসিডেন্সি কলেজে অর্থনীতি বিভাগের অনার্সে ভর্তি হন ১৯৪৬ সালে। একবছর পর কলকাতায় দাঙ্গা শুরু হলে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। এখান থেকে অসাধারণ রেজাল্ট করে তিনি কালীনারায়ণ বৃত্তি নিয়ে হার্ভার্ডে চলে যান। সেখান থেকে অর্থনীতির পড়াশুনা শেষে করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ২৬ বছরে ‘রিডার’ হিসেবে যোগদান করেন ১৯৫৫ সালে।

এর পরের বছর ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনীতিবিদগণ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে আলোচনার জন্য এক বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে উপস্থিত দশজন বাঙালী অর্থনীতিবিদদের মধ্যে কনিষ্ঠতম হিসেবে নূরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এই মিটিংয়েই প্রথম ‘দুই অর্থনীতি’ তত্ত্ব উপস্থাপন করা হয়। বলা হয় যে, পাকিস্তানের দুই ভাগে দুই রকমের অর্থনৈতিক অবস্থা বিরাজ করছে। এতে করে পূর্ব পাকিস্তান বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। ১৯৬১ সালের দিকে আইয়ুব খান পাকিস্তানের উন্নয়ন সমস্যা নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনীতিবিদদের সাথে আলোচনা করে। দুই অর্থনীতিকে ভিত্তি করে এসব সমস্যার কারণ ও সমাধানের ব্যাপারে অর্থনীতিবিদরা আইয়ুব খানের নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করে। এই স্মারকলিপি লেখার দায়িত্ব ছিল নূরুল ইসলামের। স্মারকলিপি প্রদানের পরই দুই অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা জোরালো রুপ নেয় এবং সেসময়ের চলমান স্বাধিকার আন্দোলনের অন্যতম ইস্যুতে রুপান্তরিত হয়। বঙ্গবন্ধুর ছয়দফা অর্থনৈতিক এসব আলোচনা দ্বারা প্রভাবিত হয়।

তবে নূরুল ইসলামসহ বাঙালী অর্থনীতিবিদরা ছয়দফার সাথে সরাসরি যুক্ত হন ১৯৬৯ সালে। বঙ্গবন্ধু এসময় ছয় দফার বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও আওয়ামীলিগের নির্বাচনী ইশতেহারের অর্থনৈতিক দিকগুলো আলোচনার জন্য নুরুল ইসলামসহ অন্যান্যদের সাথে আলোচনা করেন ও তাদের এ ব্যাপারে দায়িত্ব প্রদান করেন। এভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তাল সময়গুলোতে তিনি বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। সেসময় তার বাসভবন হয়ে উঠে বাঙালী অর্থনীতিবিদদের প্রধান কেন্দ্রস্থল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি আমেরিকায় বাংলাদেশের পক্ষে প্রচারণা চালান। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। প্রথম ভাগ এ আলোচনার মাধ্যমে শেষ হয়।

দ্বিতীয় ভাগে মূলত তিনি প্ল্যানিং কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর দায়িত্বকাল নিয়ে আলোচনা করেছেন। দেশের চারজন স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদকে নিয়ে প্ল্যানিং কমিশন ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁদেরকে মন্ত্রীর সমমানের মর্যাদা দেয়া হয়। ১৯৭৩ সালে প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়। রাজনীতিবিদ, সরকারী কর্মকর্তা সহ অন্যান্যরা এর ব্যাপক সমালোচনা করে। মূলত প্রথম থেকেই এ কমিশন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সাহায্যের অনুকূল দৃষ্টি পায়নি। ফলে এ কমিশন বেশিদিন টেকেনি। ১৯৭৫ সালে তিনিসহ অন্যান্য অর্থনীতিবিদরা কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন। এ অধ্যায়ে আটটি চ্যাপ্টার রয়েছে। এখানে তিনি প্রথম পরিকল্পনা কমিশন নিয়ে মূল্যায়ন করেন, সেসসময়ের শিল্প প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ প্রক্রিয়া, ১৯৭৪ এর দুর্ভিক্ষ এবং ইন্দো-বাংলাদেশ বিষয়ে আলোচনা করেন।

তৃতীয় ভাগে ৫ টি চ্যাপ্টার রয়েছে। এগুলোতে তিনি বাংলাদেশের সমসাময়িক অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। ১৯৭৫ এর পর তিনি অক্সফোর্ড এর ফেলো হিসেবে যোগ দেন এবং জাতিসংঘের “FAO”তে সহকারী মহাপরিচালক হিসেবে কাজ করেন। এসময় তিনি পলিসি মেকিং, বাজার ব্যবস্থা, কৃষি ইত্যাদি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা করেছেন। তাঁর এসব গবেষণায় বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে। এসব নিয়েই এ চ্যাপ্টারে আলোচনা করেছেন।

প্রবক্তা তার প্রবন্ধটি শেষ করেছিলেন এভাবে যে, বাংলাদেশ একটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন নূরুল ইসলাম। একজন অর্থনীতিবিদের দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি তাঁর সেসব অভিজ্ঞতা এ বইয়ে বর্ণনা করেছেন । দেশের সংকটকালীন সময়ে তিনি তার সর্বোচ্চ সামর্থ্য উজাড় করে দিয়েছেন। বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং মেধাবী অর্থনীতিবিদ হিসেবে তিনি এখনো প্রেরণার উৎস। একারণে নূরুল ইসলামকে জানা এবং তার বই নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

প্রবক্তা তার বক্তব্য সমাপ্ত করলে সঞ্চালক সৈকত বিশ্বাস ব্যখ্যা করেন কিভাবে সকল আন্দোলন সংগ্রামের পিছনে অর্থনীতি মূখ্য ভূমিকা পালন করে । তিনি বলেন মোঘল শাসনামলে বাংলার বার ভূঁইয়াদের আন্দোলন, ব্রিটিশ আমলে ফকির সন্নাসীদের আন্দোলনের পিছনে ছিল অর্থনৈতিক কারণ। এমনকি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং স্বাধীন বাংলাদেশ আন্দোলনের পশ্চাতেও ছিল অর্থনীতি। আর বাঙালির প্রতি পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৈষম্য তুলে ধরেছিলেন নুরুল ইসলাম। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাস পুনর্গঠনে তার এই বই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি মনে করেন।

উন্মুক্ত আলোচনায় প্রথমে জুলফিকার ইসলাম বলেন একটি জাতি গড়ে উঠার পরিক্রমার সাথে জড়িত ছিলেন নুরুল ইসলাম । তিনি নুরুল ইসলামের সমগ্র জীবন কে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেন, ক. বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, খ. সরকারী চাকুরিজীবী ,গ. বিদেশ জীবন। তিনি নুরুলের সমগ্র জীবনকে পর্যালোচনা করে বলেন , নরুল ইসলাম ছিলেন প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী ।  প্রতিকূল পরিস্থিতিকে নিজের অনুকূলে নিয়ে আসার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তাঁর ।  তিনি পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে শহর কেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বর্তমান বাংলাদেশেও বিদ্যমান । ফলে সাধারন মানুষের জীবনমান উন্নয়ন আশানুরূপ হচ্ছে না। উন্নয়ন পরিকল্পনা হওয়া উচিৎ সকল মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য । ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা রাজনৈতিক মুক্তি লাভ করেছি কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তি এখনো সম্ভব হয়নি। তিনি আরো বলেন , আত্মসম্মানবোধ ও অর্থনৈতিক কারণেই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি তৈরি হয় । আর এই ভিত্তি তৈরিতে বঙ্গবন্ধু এবং তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের ভূমিকা যেমন ছিল, তেমনি ছিল রেহমান সোবহান ও নুরুল ইসলামের মতো অর্থনীতিবিদদের ভূমিকাও।

উন্মুক্ত আলোচনায় সাকিব বলেন পৃথিবীর সকল বিদ্রোহের পিছনে ছিল অর্থ, কারণ মানুষ যখন নিজের মৌলিক জীবন যাপন করতে ব্যর্থ হয় তখনই সে বিদ্রোহ বিশৃঙ্খলা শুরু করে। অর্থনীতি ও রাজনীতি একে অপরকে প্রভাবিত করে । ৪৭ এর দেশ ভাগ ৭১ স্বাধীনতা যুদ্ধ এসবের মূল কারণ ছিল অর্থনীতি। বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য নুরুল ইসলাম যে অবদান রেখেছেন তার জন্য বাঙালি চিরকাল তাঁর কাছে ঋণী থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে রবিন নুরুল ইসলামের গ্রন্থটিকে তিন ভাগে বিভক্ত করে আলোচনার প্রয়াস চালান। প্রথমে তিনি ৪৭ থেকে ৭১ পর্যন্ত বাঙালির উপর অর্থনৈতিক বৈষম্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে নুরুল ইসলামের অবদান মূল্যায়ন করেন। প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নে তাঁর কৃতিত্ব বর্ণনা করেন। তিনি আরো বলেন সোভিয়েত রাশিয়া তার পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেল কিন্তু বাংলাদেশ সেই ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আর এই ব্যর্থতার মূল কারণ রাজনীতিবিদদের আন্তরিকতার অভাব।

আলোচনার এক পর্যায়ে ইফতিখারুল ইসলাম বলেন বাংলাদেশের মুক্তির জন্য নুরুল ইসলামরা রক্ত ও ঘাম ঝরিয়েছেন । বর্তমানে তাঁর অনুসারীদের রক্ত ঝরানোর সুযোগ না থাকলেও ঘাম ঝরানো উচিৎ বলে মনে করেন। তিনি বলেন ৫২ ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি মুৃসলমানদের যে স্বদেশ যাএা শুরু হয় তা পরিপূর্ণতা পায় ৬৬’র ছয় দফার মাধ্যমে । কারণ ৬ দফাতে অর্থনৈতিক বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়, আর জনগন সংস্কৃতি যতটুকু বোঝে তার চেয়ে বেশি বোঝে অর্থনৈতিক হিসাব। তাই এই আন্দোলন জনপ্রিয়তা পায় । আর এই আন্দোলনের অর্থনৈতিক পুরোধা ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন নুরুল ইসলাম।

উন্মুক্ত আলোচনার সর্বশেষ বক্তা হিসাবে আবদুর রহমান দি ইন্ডিয়ান মুসলমানস বই থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে ব্রিটিশ শাসনামলে মুসলমানদের বিদ্রোহের কারণ ব্যাখ্যা করেন । তিনি বলেন মুসলমানরা সেনাবাহিনী, সরকারী চাকুরী ও রাজস্ব বিভাগ থেকে যে আয় করতো তা যখন সংকুচিত হতে শুরু করে তখন তারা  বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা শুরু করে । ঠিক তেমনিভাবে ৪৭-এ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর বঙালিরা যখন দেখতে পেল তাদের উৎপাদিত পাট, চা বিক্রয় করে অর্জিত টাকা দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন হচ্ছে; সর্বক্ষেত্রে তারা বৈষম্যের শিকার , তখন তারা আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করে। অর্থাৎ আন্দোলন সংগ্রামের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে অর্থনীতির । এরপর তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের সফলতা ও ব্যর্থতার তুলনামূলক পর্যালোচনা করেন। জাতির জনকের নেতৃত্বে সরকার বিভিন্ন নীতির ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন নুরুল ইসলামের মতে মুজিব সরকারের পতনের কারণ ছিল -ক. প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও অভিজ্ঞতার অভাব, খ. রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব, গ. সেনাবাহিনীকে রাজনীতিকরন এবং রক্ষীবাহিনী গঠন, ঘ. অর্থনৈতিক সংকটের সুষ্ঠু কারণ উদঘাটনে ব্যর্থতা এবং ঙ. দুর্নীতি।

এছাড়া নুরুল ইসলাম তাঁর গ্রন্থে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যে সকল প্রদক্ষেপ গ্রহনের কথা বলেছেন তা উল্লেখ করেন । তা হলো দক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে এমন সরকারি কাঠামো গড়ে তোলা , অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেসরকারী করণ, রাজনৈতিক বহুত্ববাদিতার সম্প্রসারণ , সর্বোপরি অর্থনৈতিক পুনর্গঠন।

উন্মুক্ত আলোচনা শেষে সমাপনী বক্তব্য নিয়ে আসেন রাশেদ রাহম । তিনি বলেন জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ , সাংবাদিক ,সংস্কৃতিবিদ ইত্যাদি সকলের কমবেশি ভূমিকা থাকে । একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ইতিহাস যেভাবে আজ থেকে ১০০ বছর পূর্বে `A Nation in the Making’ গ্রন্থে তুলে ধরেছেন, ঠিক তেমনিভাবে একজন অর্থনীতিবিদ হিসাবে নুরুল ইসলাম বাঙালির জাতীয়তাবাদের অর্থনৈতিক ইতিহাস তাঁর গ্রন্থ `Making of a  Nation Bangladesh : An Economist’s Tale’ এ তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অাত্মজীবনীর জয়জয়কার তবে অর্থনীতিবিদদের অাত্মজীবনী তেমন একটা লক্ষনীয় নয় । তার মাঝে নুরুল ইসলামের গন্থটি অর্থনৈতিক অত্মজীবনী হিসাবে  অগ্রগন্য। তিনি রেহমান সোবহানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন , বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এখনো পূর্ণাঙ্গ নয়। তাই মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনায় অর্থনৈতিক ইতিহাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো বলেন নুরুল ইসলামের মতো অর্থনৈতিক ইতিহাস পুনর্গঠনে অবদান রাখেন রেহমান সোবহান, আতাউর রহমান এবং অানিসুর রহমান। অানিসুর রহমানের লেখা একটি গ্রন্থ হচ্ছে ‘অপহৃত বাংলাদেশ’। এই বইতেও একজন অর্থনীতিবিদের চোখে বাংলাদেশের ইতিহাস বিধৃত হয়েছে। এছাড়া তিনি বঙ্গবন্ধুর সরকারের পতনের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে বক্তব্য শেষ করেন ।

লিখেছেন: আবদুর রহমান

You Might Also Like

No Comments

Leave a Reply