Book Review weekly

রমেশচন্দ্র দত্ত (১৮৪৮-১৯০৯) -এর বাংলার কৃষক

রিডিং ক্লাবের ২৩১তম সাপ্তাহিক পাবলিক লেকচার

প্রবক্তা:  সৈকত বিশ্বাস

 

‘দি পিজেন্ট্রি অব বেঙ্গল: বিয়িং এ ভিউ অব দিয়ার কন্ডিশন আন্ডার দি হিন্দু, দি মোহামেডান ’ বা ‘বাংলার কৃষক’ বইটি লেখেন রমেশচন্দ্র দত্ত। বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৪ সালে। রমেশচন্দ্র দত্ত ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা ও লেখক। তিনি ১৮৪৮ সালে কলকাতায় জন্ম গ্রহণ করেন। ১৮৬৬ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে পাশ করে লন্ডনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে যান। সেখানে তিনি ব্যারিস্টারি ডিগ্রী অর্জন করেন। ফিরে এসে বাংলা ও উড়িষ্যায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, ম্যাজিস্ট্রেট, কালেক্টর, কমিশনার হিসেবে ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বেশ কিছু উপন্যাস লেখেন। ইকোনোমিক হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়া নামক একটি বিখ্যাত গ্রন্থও রচনা করেন। তবে তাঁর সব চেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো ‘দি পিজেন্ট্রি অব বেঙ্গল’। এই বইতে তিনি আন্তরিকতার সাথে বাংলার কৃষকদের দুঃখ-কষ্টের কথা লিখেছেন।

এই বইতে কৃষকের অবস্থা বর্ণনা করতে যেয়ে প্রথমবারের মতো পরিসংখ্যানের ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেছেন হিন্দু ও মুসলিম আমলে রাজা ইচ্ছে মতো কৃষকের উপর কর আরোপ করতো। যদি ফসল বেশি ফলতো তাহলে করও বেশি আরোপ করতো। এতে কৃষকের সঞ্চয় করার সুযোগ ছিল না। তবে সেই সময় ব্রিটিশ আমলের তুলনার রাজার দয়া-দাক্ষিণ্য প্রজার প্রতি বেশ ভাল ছিল। রাজা যদি দয়াবান হতেন প্রজার মঙ্গল হতো কিন্তু রাজা কঠোর হলে প্রজাদের কষ্টের সীমা থাকতো না। তবে তিনি ধারণা করেন বর্তমানের কৃষকের চেয়ে হিন্দু ও মুসলমান আমলে কৃষকেরা বেশি ভাল অবস্থা ছিল। ব্রিটিশ আমলে বিভিন্ন প্রকারের অতিরিক্ত কর যেমন লবণ কর, তামাক কর, অনুমিত পত্র কর, আয়কর ইত্যাদি দিতে গিয়ে বাংলার মানুষের দুর্দশার আর সীমা থাকে না।

তিনি এও বলেন পূর্বের চেয়ে কোম্পানি আমলে শান্তি শৃঙ্খলা নিশ্চিত, ব্যবসা-বানিজ্য দ্রুত বিকশিত, কৃষি সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা বোধ, মতামত প্রকাশ, চিন্তার স্বাধীনতা মতো শত বছরের দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে কৃষকরা জেগে উঠেছে। তিনি বিদেশীদের সরকারী চাকরিতে নিযোগ না দিয়ে দেশীদের নিয়োগ দেওয়ার কথা বলেছেন। তাহলে আসন্ন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন হবে না। গ্রামের পঞ্চায়েত ব্যবস্থাই গ্রামে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযোগী ছিল বলে তিনি মনে করেন। তাই প্রস্তাব দেন আবার প্রঞ্চায়েত ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা উচিত। আইন প্রণয়নে ভারতীয় সমাজে ব্রিটিশরা ভুল বুঝেছে বলে মনে করেন রমেশচন্দ্র। পূর্বের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা বর্তমানের জুরি ব্যবস্থার চেয়ে বেশি জনগণের কল্যাণকামী ছিল বলে তিনি বিবেচনা করেন। জেলা পুলিশ সুপারের পদ বিলোপ করে, ম্যাজিস্ট্রেটদের সে দায়িত্ব প্রদান করার কথা বলেন। সেনাবাহিনীর ব্যয় কমানোর প্রস্তাব দেন এবং অধিকতর গণপূর্ত বিভাগে বাজেটে বেশি বরাদ্দ দিয়ে জনকল্যাণমূলক কাজ করার প্রতি জোর দেন।

তাছাড়া এই বইয়ে বাঙালি চরিত্রের বিভিন্ন দুর্বল দিক তুলে ধরেন। বাঙালি অলস, পরিশ্রমবিমুখ, সঞ্চয়বিমুখ ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি ইংরেজি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমেই বাঙালির নৈতিকতা ও মানবতা বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, শুধু আইন করে বাঙালি কৃষকের চরিত্র গঠন করা সম্ভব নয়, তাকে শিক্ষা প্রদান করতে হবে।

You Might Also Like

No Comments

Leave a Reply