News

সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করাই মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক চেতনা

প্রেস রিলিজ

৭ম মাসিক পাবলিক লেকচার
বিষয়: বাংলাদেশের সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাষ্ট্র
প্রধান বক্তা: আরিফ খান
সভাপতি: মিজানুর রহমান শেলী
ভেন্যু: জ্ঞানতাপস আবদুর রাজ্জাক বিদ্যাপীঠ
সময়: ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ শনিবার বিকাল ৪ টা

মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত হবে এরকম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য এবং সেটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের মৌল চেতনা। গতকাল ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ রিডিং ক্লাব ও আব্দুর রাজ্জাক বিদ্যাপীঠ আায়োজিত “বাংলাদেশের সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাষ্ট্র” শীর্ষক এক পাবলিক লেকচারে এ কথা বলেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব কনস্টিটিউশনাল স্টাডিজ (বিক্স)-এর পরিচালক জনাব আরিফ খান। তিনি আরো বলেন, “অবিভক্ত পাকিস্তান আমলে চব্বিশ বছরের সকল সংগ্রাম ও আন্দোলন মূলতঃ একটি গণতান্ত্রিক ও কার্যকর সংবিধানের দাবিকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছিল। পাকিস্তান রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্যে থেকে দুই যুগেও (১৯৪৭-১৯৭১) যখন তিন তিনবার একটি কার্যকর সংবিধান প্রণয়নের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তখনই বাংলাদেশের জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিজেদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অবিকল্প সিদ্ধান্তে উপনীত হয়।”

রিডিং ক্লাব ও আব্দুর রাজ্জাক বিদ্যাপীঠ যৌথভাবে এ লেকচারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ও সাবেক তথ্যপ্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইদ বলেন; নাগরিক দায়িত্ব কি, বাংলাদেশের সংবিধানে তা উল্লেখ করা নেই। সেগুলো স্পষ্টভাবে সংবিধানে উল্লেখ করা উচিত। আমাদের সংবিধানে অনেকগুলো আইন প্রণয়ণের কথা বলা হয়েছে। সেগুলো অতিসত্ত্বর প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর ডেভেলেপমেন্ট রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিডিআরবি)-এর চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান শেলী। তিনি বলেন, আমাদের সংবিধান সুন্দর। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে এ সংবিধান কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে। আসলে এ সংবিধান এখনো পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। এ সংবিধান বাস্তবায়ন করতে হলে সামাজিক শক্তি ও জনগণের শক্তিকে একত্রিতভাবে জেগে উঠতে হবে, তাহলেই সংবিধান বাস্তবায়ন হবে। শাসনক্ষমতায় যারা থাকেন, সংবিধান অনুযায়ী তাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। যদি তারা দায়িত্ববান না হন তাহলে সমাজ বিনষ্ট হয়ে যাবে। ক্ষমতায় থেকে যারা দায়িত্ব পালন করেনি, জনগণ তাদের কখনো ক্ষমা করবেনা।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত প্রতিষ্ঠান রিডিং ক্লাব ধারাবাহিকভাবে মাসিক লেকচার আয়োজন করে আসছে। এটা ছিল ৭ম মাসিক পাবলিক লেকচার। রিডিং ক্লাবের সর্বশেষ মাসিক লেকচার অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ২৬ নভেম্বর বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি অডিটোরিয়ামে। “নতুন বৈশ্বিক উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক এই লেকচারে বক্তা ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

You Might Also Like

No Comments

Leave a Reply