Browsing Category

News

News weekly

জ্ঞানের অভাবেই বাংলাদেশে পপুলার আর্ট সংরক্ষণে কোনো উদ্যোগ নেই

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জ্ঞানগত সংকটের কারণেই আমরা জনপ্রিয় ধারার শিল্পকলা সংরক্ষণ ও বিকাশের ক্ষেত্রে চরম অসচেতনতা ও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছি। সামষ্টিক জ্ঞানচর্চা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সচলতাই আমাদের এই জাতিগত অপিরণামদর্শিতা থেকে বাঁচাতে পারে। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সিনেপ্লেক্স হলরুমে আয়োজিত রিডিং ক্লাব ট্রাস্টের  ২৭৭ তম সাপ্তাহিক পাবলিক লেকচারে উপরোক্ত মন্তব্য করেন বক্তা শিল্পী শাওন আকন্দ। লেকচারের বিষয় ছিল পপুলার আর্ট ইন বাংলাদেশ : স্পেশাল ফোকাস অন রিকশা পেইন্টিং এ্যান্ড সিনেমা ব্যানার পেইন্টিং

বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন, অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তির বিকাশ-পরবর্তী বিশ্বায়নের পৃথিবীতে শিক্ষিত উচ্চকোটির শিল্পচর্চার বিপরীতে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা-ঘনিষ্ঠ শিল্প-সংস্কৃতির ধারা, তাদের শিল্পবোধ, সংস্কৃতি-সচেতনতা এবং শিল্পকর্মে তাদের জীবনের প্রতিফলন- এই হল পপুলার কালচারের আপাত:পরিধি। কিন্তু সাধারণের সংস্কৃতির প্রতি উদাসীনতার কারণেই সিনেমা ব্যানার পেইন্টিং এবং রিকশা পেইন্টিং নিয়ে আলোচনা-গবেষণায় আমরা আগ্রহী নই। অথচ এগুলো আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির অপরিহার্য অংশ।

সিনেমা পেইন্টিং সম্পর্কে তিনি বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে সিনেমা পেইন্টিং-এর ইতিহাস প্রায় একশ বছরের। রবি বর্মা, বাবুরাম পেইন্টার প্রমুখ অপ্রাতিষ্ঠানিক শিল্পীর হাতে সিনেমা ব্যানার শিল্পের আদি ভিত্তি তৈরি হয়। ১৯৫০-এর দশকে বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের  যাত্রা শুরু হওয়ার পর সিনেমা ব্যানার পেইন্টিংয়ের বিকাশের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন দেশভাগের পর উদ্বাস্তু হয়ে আসা অবাঙালি মুসলমানরা। নিতুন কুণ্ডের মত প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পীরা যুক্ত হলেও নিম্নবর্গের অপ্রাতিষ্ঠানিক শিল্পীরাই ছিলেন এই শিল্পের প্রাণ। আধুনিক প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংস্কৃতির এই অনন্য ধারা আজ বিলুপ্তপ্রায়। অথচ এর সংরক্ষণে আমাদের ন্যূনতম উদ্যোগ নেই। ২০০৫ সাল পর্যন্ত এই বিষয়ে কোন গবেষণা হয়নি, এর পরে যা হয়েছে তা অপ্রতুল। ন্যাশনাল ফিল্ম  আর্কাইভে সিনেমা ব্যানার পোস্টার সংরক্ষণ করা হয় না। এই শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জীবন-জীবিকার নিশ্চয়তার জন্য নেই কোন উদ্যোগ।

রিকশা পেইন্টিং সম্পর্কে তিনি বলেন, রিকশা পেইন্টিং গ্রামে দেখা গেলেও তা প্রধানত নাগরিক নিম্নবিত্তের শিল্পকলা। রিক্সার উদ্ভব জাপানে। ১৯৪০-এর দশকে বাংলাদেশে রিক্সার  প্রচলন ঘটে। বিষয় অনুষঙ্গ, রঙের ব্যবহার ইত্যাদি দেখে ধারণা করা যায় রিক্সা আর্টেও অবাঙালি মুসলমানদের অবদানই প্রধান। এই শিল্পের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পচর্চার কোন যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায় না। রিক্সা আর্টের বিষয় বৈচিত্র্য অসাধারণ- সিনেমার নায়ক-নায়িকা থেকে শুরু করে তাজমহল, বোরাক, মরুভূমি, টাইটানিক, পশু-পাখি, হেলিকপ্টার, সমুদ্র, শহরের ছবি, মুক্তিযুদ্ধ, সামাজিক অবিচার, আলাদীনের দৈত্য কিংবা ইরাক যুদ্ধ। সমসাময়িক সমাজ-রাজনৈতিক বাস্তবতাও উঠে এসেছে কখনো। যেমন- এরশাদের  স্বৈর শাসনামলে রিক্সায় মানুষের ছবি আঁকা নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে, রিক্সা আর্টে দেখা গেছে মানুষের বদলে ট্রাফিক কন্ট্রোল করছে সিংহ। রিক্সা আর্ট নিয়ে গবেষণায় যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে, তার কারণ বিদেশিরা এই বিষয়ে আগ্রহী হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর নয়, রিক্সা আর্ট-এর সবচেয়ে বড় সংগ্রহশালা জাপানে- এ আমাদের জন্য অপমানজনক।

বক্তব্যের উপসংহারে তিনি বলেন,  সিনেমা ব্যানার পেইন্টিং ও রিক্সা পেইন্টিং- দুটি শিল্পই আজ বিপন্নপ্রায়। অথচ এগুলোর সংরক্ষণ এবং এই বিষয়ক গবেষণায় আমাদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ যৎসামান্য। অথচ এই শিল্পগুলো আমাদের সামজিক-রাজনৈতিক বিবর্তনের অন্যরকম বয়ান শুধু নয়, তা আমাদের মূলধারার শিল্পচর্চাকেও সমৃদ্ধ করছে। নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি এই ঔদাসীন্য, এই আত্মঅবমাননার বীজ আমাদের সংস্কৃতির গভীরে নিহিত। জ্ঞানগত সংকট নিরসনের মাধ্যমেই এর সমাধান সম্ভবপর হবে।

রিডিং ক্লাবের সিইও জুলফিকার ইসলাম বলেন, পপুলার আর্ট বা জনপ্রিয় ধারার শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা ও সংরক্ষণে ব্যর্থতার মাঝেই নিহিত রয়েছে আমাদের অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িকতার বীজ। আমরা ভুলে যাচ্ছি আমাদের বৈচিত্র্যময় ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতির কথা। একটি উদার ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বিনির্মাণের জন্য এই শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষণ জরুরি ।

সমাপনী বক্তব্যে রিডিং ক্লাবের হেড অব রিসার্চ ও ট্রান্সলেশন ডিভিশন রাশেদ রাহম বলেন, পপুলার কালচার বৃহত্তর অর্থে সমাজবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান এমনকি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়। এসব ডিসিপ্লিনে আমাদের অবদান প্রায় শূন্য। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে ‘প্রেসক্রাইব্ড বুকস’-এর ৯৫% উৎপাদিত হয় ইউরোপ কিংবা আমেরিকায়। আমাদের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক হীনম্মন্যতার কারণ তাই আমাদের জাতীয় জ্ঞানকাণ্ডের অভাব। বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টিশীল হলেই জাতীয় সমৃদ্ধির পথ রচিত হবে।

News weekly

বাংলাদেশের সমাজ গ্রামভিত্তিক হলেও গ্রামের ইতিহাস লেখা হয় নি

রিডিং ক্লাব ট্রাস্টের ২৭৬তম সাপ্তাহিক পাবলিক লেকচার

প্রেস রিলিজ

বাংলাদেশের সমাজ গ্রামভিত্তিক হলেও গ্রামের ইতিহাস লেখা হয় নি। গ্রামের ইতিহাস হিসেবে যা লেখা হয়েছে তা মূলত জোতদার শ্রেণি ও ক্ষমতাশালীদের ইতিহাস। কিন্তু নিম্নশ্রেণির মানুষ, কৃষকদের ইতিহাস সেখানে উঠে আসেনি যা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। ডাচ গবেষক ভেল্যাম ভ্যান শেন্ডেলের বাংলাদেশ বিষয়ক গবেষণা সম্পর্কিত আলোচনায় তার  বরাতে উপরোক্ত মন্তব্য করেন রিডিং ক্লাবের ২৭৬তম সাপ্তাহিক পাবলিক লেকচারের প্রবক্তা আতাউর রহমান মারুফ।

বাংলাকে “সোনার বাংলা” বলা হয়। এই নামকরণের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হচ্ছে একজন বিদেশী ইবনে বতুতার। তিনি বাংলায় জিনিসপত্রের প্রতুলতা ও এর দাম সস্তা  বলে এই নামে অভিহিত করেছিলেন। পরবর্তী গবেষণায় গবেষকগণ অবশ্য সোনার বাংলাকে ‘মিথ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। প্রবক্তা ইবনে বতুতার সূত্র ধরে বিদেশী পণ্ডিতদের বাংলাদেশ বিষয়ক গবেষণার ইতিবৃত্ত তুলে ধরেন।

প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলার পর্যটকদের ভ্রমণবৃত্তান্তসমূহ আমাদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ আকর। কিন্তু বঙ্গদেশ সম্পর্কে বিদেশীদের গবেষণাধর্মী কাজের সূত্রপাত ঘটে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে। ব্রিটিশরা নিজেদের প্রয়োজনে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি, পরিবেশ, ভাষা, ধর্ম, অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়েছে। স্কটিশ ইতিহাসবিদ ও পরিসংখ্যানবিদ স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টারের “A Statistical Account of Bengal”-সহ অন্যান্য গবেষণাগ্রন্থ এখনো বঙ্গদেশ বিষয়ক গবেষকদের জন্য অবিকল্প প্রামান্য গ্রন্থ। ফরিদপুরের ম্যাজিস্ট্রেট জি. সেক ১৯০৬-১৯১০ সময়কালীন ফরিদপুরের মানুষের অর্থনৈতিক জীবন সম্পর্কে একটি নৃতাত্ত্বিক গবেষণা করেছেন। গবেষণাটির শিরোনাম ছিল- “The Economic Life of a Bengal District”

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পরে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্লেষণাত্বক গবেষণা শুরু হয়। গবেষকদের মধ্যে নেদারল্যান্ডের নাগরিক ভ্যান শেন্ডেল বাংলাদেশের ইতিহাস চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কারণ তিনি বাংলাদেশ বিষয়ক গবেষণায় উপেক্ষিত বিষয় সম্পর্কে গবেষণা করেছেন। তাছাড়া, তাঁর গবেষণার প্রধান কেন্দ্রভূমি বাংলাদেশের মানুষ। তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, অর্থনীতি, সামজিক অবস্থা, নৃতাত্বিক বিবর্তনসহ বাংলাদেশ সম্পর্কে সামগ্রিক আলোচনা করেছেন।

তাঁর “A History of Bangladesh” বইটি বাংলাদেশের ইতিহাস চর্চায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । ইতিহাসবিদ ইফতেখার ইকবাল এ বইটির রিভিউতে বলেন, বাংলাদেশ সম্পর্কে যে কাজগুলো হয়েছে তার মধ্যে এটি অত্যন্ত সাহসী একটি কাজ। ভ্যান শেন্ডেলের ১২টি বই পাওয়া যায়। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিষয়ক বই ছয়টি। তাঁর মৌলিক গবেষণাগ্রন্থের সংখ্যা আটটি। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিষয়ক গ্রন্থ সাতটি ।

শেন্ডেল বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষকদের গতিশীলতা সম্পর্কে গবেষণা করেছেন। আমাদের সীমান্তে বসবাসকারী মানুষদের জীবন সম্পর্কেও গবেষণা করেছেন। আমাদের নীল অর্থনীতি (নীল চাষ) সম্পর্কে গবেষণা  করেছেন । পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ে তাঁর গবেষণা রয়েছে। বাংলাদেশে রেশম শিল্প সম্পর্কে গবেষণা হয়েছে কিন্তু রেশম নীতি সাধারণ মানুষকে কিভাবে প্রভাবিত করেছে- এ সম্পর্কে কোন গবেষণা হয়নি। এ সম্পর্কে তিনি গবেষণা করেছেন।

শেন্ডেলের ১৯৮১ সালে প্রকাশিত  “Peasant mobility : The Odds of Life in Rural Bangladesh Studies of Developing Countries” বইতে আমাদের কৃষক পরিবার সম্পর্কে আলোচনা করেছেন । বাংলাদেশে কৃষি বিষয়ে গবেষণা হয়েছে প্রচুর। কিন্তু কৃষকের পরিবার ও তাদের ইতিহাস সম্পর্কে গবেষণা হয়নি । ১৮৮০-১৯৮০ এই একশত বছরের কৃষক গতিশীলতার  ইতিহাস তাঁর বইয়ে আলোচিত হয়েছে।

২০০০ সালে  শেন্ডেলের  “Chittagong Hill Tracts: Living in Borderland”  বইটি প্রকাশিত হয় । বইটিতে তিনি ফটোগ্রাফির মাধ্যমে নৃতাত্ত্বিক আলোচনা করেছেন। বইটি লেখার কারণ  হল পার্বত্য চট্রগ্রামের ইতিহাস বাংলাদেশে সর্বদা উপেক্ষিত হয়েছে। শেন্ডেল এই বইয়ের জন্য সারা বিশ্বের প্রায় ৫০ টি সূত্র থেকে ছবি সংগ্রহে করেছেন ।

শেন্ডেলের মতে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে গবেষণা অপর্যাপ্ত। বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কাজ করলে, আরো নতুন বিষয় উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সফল হয়েছে কিন্তু একইভাবে নাইজেরিয়ার মুক্তিযুদ্ধ  ব্যর্থ হয়েছে কেন? এ বিষয়ে গবেষণা করা যেতে পারে। বাংলাদেশের গণহত্যার সাথে বিংশ শতাব্দীতে অন্য গণহত্যার সম্পর্ক বিষয়েও আলোচনা করা যেতে পারে। আমাদের সাধারণ মানুষের ইতিহাস লেখার চেষ্টা তার অন্যতম বড় গুণ।

সবশেষে বক্তা শেন্ডেলের বাংলাদেশ সম্পর্কে আশাবাদের কথা বলেন। শেন্ডেলের মতে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ বাংলাদেশের প্রাণশক্তি, যারা বাংলাদেশকে সারা বিশ্বে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ রাষ্ট্র  হিসেবে গড়ে তুলবে।

রিডিং ক্লাবের সিইও জুলফিকার ইসলাম শেন্ডেলের বাংলাদেশের প্রান্তিক মানুষ-কেন্দ্রিক গবেষণা সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশে যারা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা করেন, তাঁদের গবেষণায় প্রান্তে বসবাসকারী মানুষরা বরাবরই উপেক্ষিত। কিন্তু শেন্ডেল এই প্রান্তিক মানুষের জীবন সম্পর্কে গবেষণা করেছেন । তিনি কৃষকদের নিয়ে, আদিবাসী নিয়ে এবং সীমান্ত নিয়ে গবেষণা করেছেন।  তিনি দু:খ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের  সরকার এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি আদিবাসীদের সম্পর্কে তেমন সচেতন নয়। তিনি এও বলেন, একটি রাষ্ট্র কতটুকু মানবিক তা বোঝা যায়, সেই রাষ্ট্র তার প্রান্তিক জনগণের প্রতি কতটুকু আন্তরিক- তার উপর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী লিপিকা বিশ্বাস অর্থনৈতিক বৈষম্যের কথা বলতে গিয়ে জিডিপি-নির্ভর উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি প্রশ্ন করেন, জিডিপি কার বৃদ্ধি পাচ্ছে? ধনী আরো ধনী হচ্ছে, কিন্তু গরিব আরো গরিব হচ্ছে। সমাজে অর্থনৈতিক  বৈষম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জামশেদ সাকিব তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশে কৃষকের উৎপাদন ক্ষমতা কম হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা  করেন। রাশিয়ায় ১৩-১৪ বছরের পূর্বে কেউ কৃষির উৎপাদনে সরাসরি যুক্ত হয় না । কিন্তু বাংলাদেশে ৬ বছর বয়স  পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে ধীরে ধীরে কৃষি কর্মকান্ডে যুক্ত হওয়া শুরু করে । ফলে সে কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে ব্যর্থ হয়।

শেন্ডেল রচিত বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে আলোচনার শুরুতেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নানা অনালোচিত অনুষঙ্গ নিয়ে মন্তব্য করেন তুহিন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের ১৮ লক্ষ মানুষকে আশ্রয় দেয়া ত্রিপুরার অবদান অনালোচিত । ত্রিপুরার মেলাঘয়ে সেনাবাহিনী সদস্যেদের প্রশিক্ষণের ঘটনাও অনালোচিত। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনা করার প্রয়োজনীয়তা কথা বলেন তিনি।

শেন্ডেল বিষয়ক আলোচনার অর্থ আমাদের অস্তিত্বকে বোঝা। আমরা কতটা অথর্ব শেন্ডেলের গবেষণার মাধ্যমে তা বোঝা যায় । কারণ একজন বিদেশী আমাদের কাজ করে দিয়েছেন। আমরা তা করতে পারিনি। সমাপনী বক্তব্যে রিডিং ক্লাবের পরিচালক আরিফ খান উপরোক্ত মন্তব্য করেন । তিনি বলেন, শেন্ডেলের বইয়ের প্রচ্ছদে একজন রিকশাওয়ালার ছবি। তাঁর মতে রিকশাওয়ালারাই বাংলাদেশ । কারণ বাংলাদেশে রিকশাওয়ালারা খণ্ডকালীন বেকারত্ব লাগব করতে শহরে আসে। আবার কৃষি কাজের সময় গ্রামে চলে যায় । অর্থাৎ সে গ্রাম ও শহর দু’জায়গায়ই বসবাস করে। আরিফ খানের মতে, শেন্ডেল রিকশাওয়ালার মাধ্যমেই  Making sense of contemporary Bangladesh বোঝাতে চেয়েছেন । শেন্ডেল তাঁর কাজের মাধ্যমে আমাদেরকে ঋণী করে ফেলেছেন। কারণ তাঁর কাজগুলো আগামী ৫০-১০০ বছর পরে হলেও আমাদেরকে করতেই হত। কিন্তু শেন্ডেল তা আগেই করে আমাদেরকে ঋণগ্রস্ত করেছেন ।

একটি জাতির বোধোদয় হয় তার ইতিহাস জানার মাধ্যমে। আমাদের ৫২-র ফেব্রুয়ারীর বীজ বেড়ে উঠতে ৮০০ বছরের অধিক সময় লেগেছে। পৃথিবীতে বহু ভাষা, জাতি বিলুপ্ত হয়েছে । বাঙালি জাতির টিকে থাকার রহস্য জানা যায়  শেন্ডেলের কাজের মাধ্যমে। আমাদের দুর্বলতা বোঝার জন্য আমাদেরকে শেন্ডেলের কাজের দিকে তাকাতে হবে।

 

News

ফটোগ্রাফি সামাজিক প্রতিরোধের শক্তিশালী মাধ্যম- রিডিং ক্লাব ও রাজ্জাক ফাউন্ডেশন আয়োজিত পাবলিক লেকচারে শহিদুল আলম

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ফটোগ্রাফি শুধু একটি প্রযুক্তি বা শিল্পমাধ্যম নয়, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার প্রভাবশালী অস্ত্র। গতকাল শনিবার জাতীয় জাদুঘরের বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে রিডিং ক্লাব ট্রাস্ট ও জ্ঞানতাপনস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশন আয়োজিত ১৪তম মাসিক লেকচারে এসব কথা বলেন দৃক পিকচার লাইব্রেরি ও পাঠশারা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা আলোকচিত্রী শহীদুল আলম। এক ঘণ্টার বক্তৃতায় তিনি নিজের তোলা আলোকচিত্র, ভিডিও এবং সমাজকর্মী হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বর্ণনার মাধ্যমে দেখিয়েছেন, কীভাবে স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে সেই এরশাদের আমল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক নিপীড়ন ও মানবিক অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনে আলোকচিত্রীগণ ভূমিকা রেখেছেন। বিদেশি আলোকচিত্রীদের ছবিতে বাংলাদেশ সারা পৃথিবীতে পরিচিতি পেয়েছে শুধু একটি দরিদ্র, দুর্ভিক্ষ মহামারি-পিড়ীত দেশ হিসেবে। বাংলাদেশের সত্যিকারের পরিচিতি তুলে ধরার জন্যই দৃক পিকচার লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর জনগণের উল্লাসের ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, তখন ভাবলাম আবার স্বাধীনতা পেয়েছি। গণতন্ত্রের জন্য এখনো আমাদের আক্ষেপ করতে হবে তখন ভাবিনি।
আলোচনায় তিনি গণআদালত ও সরকারি গণমাধ্যমের রাজনীতিকরণ, ক্যামেরার ক্ষমতা ও সমাজের ক্ষমতা-সম্পর্ক, বাংলাদেশে নকশাল আন্দোলন, তসলিমা নাসরিনের প্রতি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিগ্রহ, ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ, জাহাজভাঙ্গা শিল্প, গার্মেন্টস শ্রমিকদের অধিকারহানি, অভিবাসী শ্রমিকদের দুর্ভোগ, বিজিএমই ভবন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয় তিনি তুলে ধরেন। এসময় তিনি ‘ক্রসফায়ার’, ‘কল্পনা চাকমা’ শীর্ষক নিজের গুরুত্বপূর্ণ কর্মের অংশবিশেষ প্রদর্শন ও ব্যখ্যা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গবেষক ড. জাকির হোসেন রাজু। তিনি বলেন, ফটোগ্রাফি জনপরিসরের পরিধি বৃদ্ধি করে এবং আমাদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনেতিক পরিচয় নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করে। আমরা দৃশ্যভাষার যুগে বাস করছি, ইমেজ থেকে আমাদের কোন পরিত্রাণ নেই। সুতরাং আমাদের চলচ্চিত্র, ফটোগ্রাফিসহ জনসংস্কৃতির অন্যান্য মাধ্যম নিয়ে গবেষণার উপর জোর দিতে হবে।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিরিয়াস পাঠাভ্যাস ও গবেষণা-সংস্কৃতিতে উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত রিডিং ক্লাব ২০১৬ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে মাসিক লেকচারের আয়োজন করে থাকে। এছাড়া ইতোমধ্যে তরুণ চিন্তকদের নিয়ে তারা ধারাবাহিকভাবে ২৭৫ টি সাপ্তাহিক লেকচারের আয়োজন করেছে। প্রতি শুক্রবার বিকেল চারটা থেকে ছয়টায় জাতীয় জাদুঘরের নিচতলার সিনেপ্লেক্স হলরুমে এই লেকচার আয়োজন করা হয় যা সবার জন্য উন্মুক্ত।

News

রিডিং ক্লাব ট্রাস্টের উদ্যোগে “ফটোগ্রাফি: প্রতিবাদের বিকল্প ভাষা” শীর্ষক পাবলিক লেকচার আয়োজন

আজ ১২ আগস্ট ২০১৭ শনিবার বিকাল ৪ টায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে রিডিং ক্লাব ট্রাস্ট ও জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “ফটোগ্রাফি: প্রতিবাদের বিকল্প ভাষা” শীর্ষক ১৪তম মাসিক পাবলিক লেকচার।

উক্ত লেকচারে বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশে আধুনিক ফটোগ্রাফির পথিকৃত ও দৃক ফটো গ্যালারি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. শহিদুল আলম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন রাজু।

News weekly

আবু সাঈদ চৌধুরীর যোগ্যতা ও দক্ষতার কারণে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বীকৃতি ত্বরান্বিত হয়

রিডিং ক্লাব ট্রাস্টের

২৭০তম  সাপ্তাহিক পাবলিক লেকচার

বিষয়: শ্যাডো অব দি চৌধুরী- রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধূরীর জীবনকীর্তির অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণ

বক্তা: ইফতিখারুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রেস রিলিজ  

 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ একটি গৌরবজনক অধ্যায়। দেশের ভিতরে মুক্তিযুদ্ধ চলছিল। অন্যদিকে দেশের বাহিরে ছিল দুই পরাশক্তির দ্বন্দ্ব। আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নে দুই মোড়লের মধ্যে কোন দেশ স্বাধীন হওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। বর্তমানে অনেক জাতি আন্তর্জাতিক রাজনীতির কারণে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে না।

বাংলাদেশ অনেক সৌভাগ্যবান একটি জাতি। কারণ আন্তর্জাতিক রাজনীতির উত্তাপ সত্ত্বেও কয়েকজন মানুষের প্রগাঢ় বুদ্ধি ও দক্ষতার জন্য, চরম উত্তেজনার মধ্যেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বীকৃত হয়।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির উত্তাপের মধ্যে আবু সাঈদ চৌধুরীর যোগ্যতা ও দক্ষতার কারণে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বীকৃতি ত্বরান্বিত হয়। তাছাড়া আমাদের মুক্তিযুদ্ধকালীন দুজন দক্ষ নেতা ছিলেন। প্রথমজন দেশের ভেতরে তাজউদ্দিন আহমদ । দ্বিতীয়জন দেশের বাহিরে  আবু সাঈদ চৌধুরী।

কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় বাহিরের উত্তাপ সম্পর্কে বাংলাদেশে আলোচনা কম। সেজন্য আবু সাঈদ চৌধুরী বাংলাদেশের অনালোচিত। যা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়।

রিডিং ক্লাবের পরিচালক আরিফ খান উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

রিডিং ক্লাবের ২৭০তম সাপ্তাহিক পাবলিক লেকচারের বিষয় ছিল “শ্যাডো অব দি চৌধুরী- রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধূরীর জীবনকীর্তির অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণ”।

মূল আলোচনায় ইফতিখারুল ইসলাম আবু সাঈদ চৌধুরীর জীবনের নানা প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯২১ সালে টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণ করেন। তখন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাসহ ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের শাসন ছিল। কিন্তু তার পরিবার ছিল অসাম্প্রদায়িক। যা অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে সাঈদ চৌধুরীকে সহায়তা করে।

মানুষের মনে আঘাত দেওয়া যাবে না, মায়ের উপদেশটি সারাজীবন মনে রেখেছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকাকালীন পদত্যাগ করা, তার ছাত্রদের প্রতি ভালোবাসা ও ক্ষমতার প্রতি লোভহীনতা প্রকাশ করে।

আবু সাঈদ চৌধুরীকে বোঝার জন্য মুক্তিযুদ্ধ পূর্ববর্তী ও মুক্তিযুদ্ধ সময়কালীন প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা প্রয়োজন। তাহলেই আবু সাঈদ চৌধুরী ব্যক্তিকে বোঝা সহজ হবে।

রিডিং ক্লাবের প্রধান গবেষক রাশেদ রাহম শ্রদ্ধাভরে তার কথা স্মরণ করেন। আবু সাঈদ চৌধুরী সম্পর্কে বলেন, তাঁর প্রধান বিচারপতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তিনি দেশের মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সকল ক্ষমতা ও পাকিস্তান সরকারের হুংকারকে উপেক্ষা করে, দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন।

তাঁর স্বপ্ন সম্পর্কে জানার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকাকালীন তার সমাবর্তন বক্তৃতা পড়ার কথা বলেন। তরুণ প্রজন্মের উচিত তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য নিজেদের তৈরী করা।

News

ঢাকা প্রতিবাদের শহর, হার না মানা ও সংস্কৃতির শহর

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০৩:২০
ঢাকা ঐতিহাসিকভাবেই প্রতিবাদী, হার না মানা ও সংস্কৃতির শহর। অদূর ভবিষ্যতেই ঢাকায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে। কিন্তু সঠিকভাবে পরিকল্পনা না নেওয়া হলে এই নগরায়ণ মানুষের জন্য বিভীষিকায় পরিণত হতে পারে। অন্যদিকে ঢাকা শহর পরিচ্ছন্ন না থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তাই ঢাকার জন্য এখনই একজন ‘ভালো কোতোয়াল’ দরকার।
‘বাংলায় নগরায়ণ ও ঢাকা’ শীর্ষক এক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে গতকাল শনিবার ইতিহাসবিদ ও গবেষক শরীফ উদ্দিন আহমেদ এ মন্তব্য করেন।
এশিয়াটিক সোসাইটি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজক বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সংগঠন ‘রিডিং ক্লাব’। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ ক্লাব প্রতি মাসে একটি বিষয়ের ওপর উন্মুক্ত বক্তৃতার আয়োজন করে থাকে। এটি ছিল তাদের নবম আয়োজন।
প্রধান বক্তা শরীফ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, নগর হলো সভ্যতা ও ক্ষমতার কেন্দ্র। মুদ্রা অর্থনীতি প্রচলনের মাধ্যমে বাংলাকে গ্রামীণ সভ্যতা থেকে নগরসভ্যতার সঙ্গে সংযুক্ত করেন মুসলিম শাসকেরা। সতেরো শতকের প্রথমদিকে ঢাকা মুঘল প্রদেশ বাংলা, বিহার ও ওডিশার রাজধানী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং পূর্ব ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী নগরকেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু ১৭৬৫ সালে ব্রিটিশরা ঢাকা দখল করে ফেলার পর তাদের স্বেচ্ছাচার ও লোভের শিকার হয়ে এই শহর ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়। তবে ভৌগোলিক সুবিধার কারণে এবং এর অন্তর্নিহিত লড়াকু চেতনার কারণে ঢাকা ধীরে ধীরে পুনরুজ্জীবিত হয়। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে ঢাকা নতুন করে মনোযোগ আকর্ষণ করে। ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী হওয়ার ফলে নগর হিসেবে এর সম্ভাবনা উজ্জ্বলতর হয়। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর রাজধানী হিসেবে ঢাকা বিকাশ লাভ করে এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতি সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, সংবিধানে আছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। এখন ঢাকা মানে কী? ঢাকার সংজ্ঞা ও সীমানা নির্ধারণ করা দরকার।

News

সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করাই মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক চেতনা

প্রেস রিলিজ

৭ম মাসিক পাবলিক লেকচার
বিষয়: বাংলাদেশের সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাষ্ট্র
প্রধান বক্তা: আরিফ খান
সভাপতি: মিজানুর রহমান শেলী
ভেন্যু: জ্ঞানতাপস আবদুর রাজ্জাক বিদ্যাপীঠ
সময়: ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ শনিবার বিকাল ৪ টা

মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত হবে এরকম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য এবং সেটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের মৌল চেতনা। গতকাল ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ রিডিং ক্লাব ও আব্দুর রাজ্জাক বিদ্যাপীঠ আায়োজিত “বাংলাদেশের সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাষ্ট্র” শীর্ষক এক পাবলিক লেকচারে এ কথা বলেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব কনস্টিটিউশনাল স্টাডিজ (বিক্স)-এর পরিচালক জনাব আরিফ খান। তিনি আরো বলেন, “অবিভক্ত পাকিস্তান আমলে চব্বিশ বছরের সকল সংগ্রাম ও আন্দোলন মূলতঃ একটি গণতান্ত্রিক ও কার্যকর সংবিধানের দাবিকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছিল। পাকিস্তান রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্যে থেকে দুই যুগেও (১৯৪৭-১৯৭১) যখন তিন তিনবার একটি কার্যকর সংবিধান প্রণয়নের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তখনই বাংলাদেশের জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিজেদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অবিকল্প সিদ্ধান্তে উপনীত হয়।”

রিডিং ক্লাব ও আব্দুর রাজ্জাক বিদ্যাপীঠ যৌথভাবে এ লেকচারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ও সাবেক তথ্যপ্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইদ বলেন; নাগরিক দায়িত্ব কি, বাংলাদেশের সংবিধানে তা উল্লেখ করা নেই। সেগুলো স্পষ্টভাবে সংবিধানে উল্লেখ করা উচিত। আমাদের সংবিধানে অনেকগুলো আইন প্রণয়ণের কথা বলা হয়েছে। সেগুলো অতিসত্ত্বর প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর ডেভেলেপমেন্ট রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিডিআরবি)-এর চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান শেলী। তিনি বলেন, আমাদের সংবিধান সুন্দর। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে এ সংবিধান কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে। আসলে এ সংবিধান এখনো পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। এ সংবিধান বাস্তবায়ন করতে হলে সামাজিক শক্তি ও জনগণের শক্তিকে একত্রিতভাবে জেগে উঠতে হবে, তাহলেই সংবিধান বাস্তবায়ন হবে। শাসনক্ষমতায় যারা থাকেন, সংবিধান অনুযায়ী তাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। যদি তারা দায়িত্ববান না হন তাহলে সমাজ বিনষ্ট হয়ে যাবে। ক্ষমতায় থেকে যারা দায়িত্ব পালন করেনি, জনগণ তাদের কখনো ক্ষমা করবেনা।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত প্রতিষ্ঠান রিডিং ক্লাব ধারাবাহিকভাবে মাসিক লেকচার আয়োজন করে আসছে। এটা ছিল ৭ম মাসিক পাবলিক লেকচার। রিডিং ক্লাবের সর্বশেষ মাসিক লেকচার অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ২৬ নভেম্বর বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি অডিটোরিয়ামে। “নতুন বৈশ্বিক উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক এই লেকচারে বক্তা ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

News

Funds the biggest challenge for SDGs: economist

Bangladesh’s biggest challenge in implementation of the sustainable development goals lies in how the government incorporates it into budgetary allocation, a noted economist said yesterday.

The country faces a number of challenges in implementation of the SDGs such as integration in the national planning process, institutional mechanism for implementation, data for monitoring and participation and accountability.

“But budgetary allocation will be the biggest challenge with respect to SDG implementation,” said Debapriya Bhattacharya, distinguished fellow of the Centre for Policy Dialogue.

He said he is eager to see how the SDGs are reflected in the budget for fiscal 2017-18.

Bhattacharya’s comments came at a public lecture on “2030 agenda for sustainable development” organised by the Reading Club, a forum of students of Dhaka University, at the Asiatic Society. He gave a pen picture of how the ideas of SDGs were floated, formulated and approved by the United Nations last year.

Bhattacharya, who is also the chairperson of the Southern Voice on Post-MDG International Development Goals and convenor of Citizen’s Platform for SDGs, Bangladesh, also talked on the country’s engagement in the SDG negotiation process.

There are some new areas of SDGs, such as affordable andCLEAN ENERGY and industry, innovation and infrastructure, which will require greater effort and resources at the country level for implementation.

The economist said he wants a food bill in Bangladesh like India’s National Food Security Act, 2013 to ensure that no one dies for want of food.

The Millennium Development Goals were the time-bound targets for addressing extreme poverty with a focus on education and health.

There was hardly any discussion on MDGs; but there were many at public, private and international levels before the new goals were approved in September last year.

He said how the SDGs will be integrated with a country’s development perspective and where theFINANCE will come from were discussed long before SDGs came into effect in January this year.

Bangladesh is on track to implementing the SDGs.

The Prime Minister’s Office is coordinating SDG implementation and the General Economic Division of the planning ministry is providing technical support, he said.

The economist hailed Bangladesh’s successive governments for implementation of the MDGs. He said Bangladesh ranked second after Rwanda in MDG implementation.

Bhattacharya said SDGs, which is an ambitious global development partnership, have been launched at a time of challenging international environment.

“Political will — at the global, regional and national levels — will be of the critical essence. Also, we need to have a strengthened accountability and legitimacy process in implementing SDGs.”

 

Get the published story in The Daily Star.

News

সমৃদ্ধ থেকে সমৃদ্ধতর হচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাস

 গত ২৯ অক্টোবর ২০১৬ রিডিং ক্লাবের উদ্যোগে আব্দুর রাজ্জাক বিদ্যাপীঠে আায়োজিত হয়েছে “উয়ারী বটেশ্বর: শেকড়ের সন্ধানে” শীর্ষক রিডিং ক্লাবের ৩য় মাসিক পাবলিক লেকচার। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ সুফি মোস্তাফিজুর রহমান। মূল বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রাচীন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে, বতমান নরসিংদী জেলার দুটো গ্রাম হচ্ছে উয়ারী-বটেশ্বর। এই উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চলে পাওয়া যায় ফসিল-উড ও পাথরের হাতিয়ার যা এ অঞ্চলে প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানব-বসতির ইঙ্গিত প্রদান করে। নিবিড় অনুসন্ধান পরিচালনা করলে হয়ত একদিন প্রাগৈতিহাসিক বসতি আবিষ্কার করা সম্ভব হবে এ অঞ্চল থেকে। উয়ারী বটেশ্বর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা চলমান। প্রতি উৎখননে আবিষ্কৃত হচ্ছে অমূল্য তথ্যসূত্র, সমৃদ্ধ থেকে সমৃদ্ধতর হচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাস।

তিনি আরও বলেন, একসময় উয়ারী-বটেশ্বর ছিল নদী বন্দর ও অভ্যন্তরীণ-আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্র। ২৩০০ বছরের প্রাচীন, ৪০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ, বিশ্ববিখ্যাত সিল্ক রুটের সাথে উয়ারী-বটেশ্বর সংযুক্ত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ের প্রতিনিধি হিসেবে নানান প্রকৃতির জ্যামিতিক নকশা করা পুথি, কাঁচের পুথি, খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের রৌপ্য ও ব্রোঞ্চ মুদ্রা, গলায় পরার নানান রঙের পাথরের অলংকার পাওয়া যায়, যা এ অঞ্চলে প্রাচীন শিল্পীদের দক্ষতার পরিচয় বহন করে ও বাংলায় প্রাচীনকালের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রমান পাওয়া যায়। প্রাচীন মিশরীয় ও চৈনিক সভ্যতার নিদর্শনগুলোর সাথে উয়ারী-বটেশ্বরের প্রাপ্ত বস্তুগুলোর বিশেষ মিল পাওয়া যায়। উয়ারী-বটেশ্বরের প্রাপ্ত নিদর্শন থেকে বাংলার মসলিনের ইতিহাসে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন সুফি মোস্তাফিজুর রহমান। আড়াই হাজার বছর আগে বাংলার জলবায়ু যে ভিন্ন রকম ছিল তা বোঝা যায় উয়ারী-বটেশ্বরে পাওয়া ভূগর্ভস্থ বসতি থেকে। সাথে সাথে বাংলায় তৎকালীন সময়ে যে সমৃদ্ধ ঔষধ শিল্প ছিল তারও প্রমান পাওয়া যায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট গবেষক গোলাম মুরশিদ বলেন, মহাস্থানগড় ও উয়ারী বটেশ্বর সমসাময়িক। তাই এই দুটি স্থানের মধ্যে তুলনামূলক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে অনেক অজানা প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে।

উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্লাক হিলস স্টেট ইউনিভার্সিটির ইমিরিটাস অধ্যাপক আহরার আহমদ। তিনি জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাককে উদ্ধৃত করে বলেন, ভালো শিক্ষক প্রশ্নের উত্তর দেন আর মহান শিক্ষক প্রশ্ন উথাপন করেন। সুফি মোস্তাফিজুর রহমান আমাদের জাতীয় ইতিহাসে মহান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

News

রিডিং ক্লাবের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মাসিক লেকচার “ওয়ারী-বটেশ্বর: শেকড়ের সন্ধানে”

আগামী ২৯ অক্টোবর ২০১৬ শনিবার বিকাল ৪ টায় জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক বিদ্যাপীঠে (রবীন্দ্র সরোবরের পাশে) রিডিং ক্লাবের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “উয়ারী-বটেশ্বর: শেকড়ের সন্ধানে” শীর্ষক বিশেষ মাসিক লেকচার। এই অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট প্রত্নতত্ত্ব গবেষক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান।  সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আমেরিকার ব্ল্যাক হিলস স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক আহরার আহমদ। লেকচারটি সবার জন্য উন্মুক্ত।